অনেকেই শুরুতে নিজের পার্সোনাল বিকাশ নম্বরে কাস্টমারের অগ্রিম বা ডেলিভারি চার্জ নেন। আমরাও তাই করতাম। কয়েক মাস পর দেখা গেল, সংসারের টাকা আর দোকানের টাকা এক নম্বরে মিশে আছে — মাস শেষে কোন টাকা কোন অর্ডারের, বের করা কঠিন।
বিকাশে ব্যবসার জন্য এখন আলাদা ধরনের অ্যাকাউন্ট আছে। কোনটা আপনার জন্য ঠিক, সেটা নির্ভর করে আপনার ব্যবসা কত বড় আর কাগজপত্র কতটা আছে তার ওপর।
একটা কথা আগেই বলে রাখি: বিকাশের চার্জ আর নিয়ম মাঝে মাঝে বদলায়। নিচের তথ্য সাধারণ ধারণার জন্য — অ্যাকাউন্ট খোলার আগে বিকাশের অফিসিয়াল সাইট বা হেল্পলাইনে নিশ্চিত হয়ে নিন।
পার্সোনাল অ্যাকাউন্টে ব্যবসার টাকা — সমস্যাটা কোথায়
- হিসাব মেলানো কঠিন। কে কোন অর্ডারের জন্য টাকা পাঠাল, স্ক্রিনশট খুঁজে খুঁজে মেলাতে হয়।
- সীমা। পার্সোনাল অ্যাকাউন্টে দৈনিক আর মাসিক লেনদেনের একটা সীমা থাকে। অর্ডার বাড়লে সেটায় আটকে যেতে পারেন।
- দেখতে পেশাদার লাগে না। বড় অর্ডারের কাস্টমার অনেক সময় ব্যবসার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বেশি স্বস্তি পান।
পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট (PRA)
বিকাশ ছোট দোকান আর ফেসবুকে বিক্রি করা সেলারদের জন্য "পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট" চালু করেছে। এতে কাস্টমার পেমেন্ট অপশন থেকে আপনাকে টাকা পাঠান, আর বিকাশের তথ্য অনুযায়ী কাস্টমারের দিক থেকে এতে আলাদা চার্জ নেই।
কয়েকটা জিনিস জেনে রাখুন:
- নতুন সিম লাগে। যে নম্বরে আগে কখনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি, এমন নম্বর দরকার। আপনার পুরনো পার্সোনাল অ্যাকাউন্টকে রিটেইল অ্যাকাউন্টে বদলানো যায় না।
- NID-এর শর্ত। যে NID দিয়ে আগে এজেন্ট বা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেটা দিয়ে এটা খোলা যায় না।
- ছোট আর মাঝারি সেলারের জন্য এটাই সাধারণত সবচেয়ে সহজ শুরু — ট্রেড লাইসেন্সের ঝামেলা ছাড়া ব্যবসার টাকা আলাদা রাখা যায়।
মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট
এটা বড় ব্যবসা আর ওয়েবসাইটের জন্য। ওয়েবসাইটে "বিকাশে পে করুন" বাটন (পেমেন্ট গেটওয়ে) লাগাতে চাইলে সাধারণত মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টই লাগে।
যা যা সাধারণত চায়:
- ট্রেড লাইসেন্স
- ব্যবসার ঠিকানা
- ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (টাকা সেখানে জমা হয়)
- মালিকের NID
অনুমোদন পেতে কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহের মতো লাগতে পারে। গেটওয়ের প্রতিটা লেনদেনে একটা শতাংশ চার্জ থাকে — এটা বিকাশের সাথে চুক্তি আর লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা হয়, তাই চুক্তির কাগজে সংখ্যাটা ভালো করে দেখে নেবেন।
তাহলে কোনটা নেবেন
- সবে শুরু করেছেন, মাসে অল্প কিছু অর্ডার: আলাদা একটা নম্বরে পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট। অন্তত সংসারের টাকা থেকে দোকানের টাকা আলাদা থাকবে।
- ট্রেড লাইসেন্স আছে, ওয়েবসাইট আছে বা বানাচ্ছেন: মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট আর গেটওয়ে।
- ক্যাশ অন ডেলিভারি বেশি: তখনও একটা ব্যবসার বিকাশ রাখুন — অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ নেওয়ার জন্য, আর কিছু কুরিয়ার বিকাশেই COD-এর টাকা পাঠায়।
কয়েকটা ছোট অভ্যাস যা কাজে দেয়
- কাস্টমার টাকা পাঠালে রেফারেন্সে অর্ডার নম্বর বা নাম লিখতে বলুন।
- প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিকাশের লেনদেন আর অর্ডার লিস্ট একবার মিলিয়ে নিন। সপ্তাহ শেষে মেলাতে গেলে মাথা খারাপ হয়ে যায়।
- কাউকে কখনো পিন বা ওটিপি বলবেন না — "বিকাশ অফিস থেকে বলছি" শুনলেও না। বিকাশ কখনো পিন চায় না।
শেষে
ব্যবসার টাকা আলাদা না রাখলে বোঝা যায় না আসলে লাভ হচ্ছে কিনা। একটা আলাদা অ্যাকাউন্ট খোলা পাঁচ মিনিটের ঝামেলা, কিন্তু মাস শেষের হিসাবটা অনেক সহজ করে দেয়।
আমাদের ক্লায়েন্ট পোর্টালে ইনভয়েস আর পেমেন্ট এক জায়গায় দেখা যায় — কীভাবে কাজ করে জানতে চাইলে মেসেজ করুন।