একবার এক সপ্তাহে একই এলাকা থেকে কয়েকটা অর্ডার এসেছিল, সবগুলো বেশ বড় অঙ্কের। খুশি হয়ে পাঠিয়ে দিলাম। একটাও রিসিভ হয়নি। পরে দেখি সবগুলো নম্বরের আগে অনেক পার্সেল ফেরত দেওয়ার রেকর্ড ছিল — শুধু আমরা দেখিনি।
ফেক অর্ডার পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। কিন্তু অনেকগুলো আগেই ধরা যায়।
যে লক্ষণগুলো দেখলে একটু থামবেন
কোনোটা একা দেখে কাউকে ফ্রড বলবেন না। কয়েকটা একসাথে মিললে সাবধান হন।
- নম্বরের রিটার্ন রেকর্ড। কুরিয়ারের ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে নম্বরটায় অনেক পার্সেল গেছে, কিন্তু বেশিরভাগই ফেরত এসেছে। এটাই সবচেয়ে শক্ত লক্ষণ।
- ঠিকানা খুব অস্পষ্ট। শুধু "ঢাকা" বা শুধু জেলার নাম, বারবার জিজ্ঞেস করলেও পুরো ঠিকানা দিতে চায় না।
- ফোন ধরে না। অর্ডার মেসেজে দিল, কনফার্ম করতে ফোন দিলে কখনো ধরে না।
- অস্বাভাবিক বড় অর্ডার, নতুন প্রোফাইল থেকে। সদ্য খোলা ফেসবুক আইডি, প্রোফাইল ছবি নেই, প্রথম মেসেজেই অনেকগুলো পিস।
- একই ঠিকানা, ভিন্ন ভিন্ন নাম আর নম্বর।
- খুব তাড়াহুড়া। "আজকেই পাঠান, না হলে লাগবে না" — বিশেষ করে বড় অর্ডারে।
কাস্টমারের ইতিহাস দেখা
কুরিয়ারগুলোর কাছে কোন নম্বরে কত পার্সেল গেছে আর কত ফেরত এসেছে তার রেকর্ড থাকে। কিছু কুরিয়ার মার্চেন্টদের এটা দেখার সুবিধা দেয়, আবার আলাদা ফ্রড-চেক সার্ভিসও আছে যেগুলো কয়েকটা কুরিয়ারের তথ্য একসাথে দেখায়।
এখানে একটা ভুল আমরা নিজেরা করেছিলাম, সেটা না বললেই না:
লুকআপ ফেল করলে — সার্ভার ব্যস্ত, টাইমআউট, দৈনিক লিমিট শেষ — আমাদের সিস্টেম ধরে নিত কাস্টমারের কোনো রিটার্ন নেই। ফলে কিছু সন্দেহজনক নম্বর "পরিষ্কার" দেখাত, আবার অনেক পুরনো ভালো কাস্টমারকে "নতুন" ধরা হত।
"তথ্য পাওয়া যায়নি" আর "রিটার্ন শূন্য" এক না। লুকআপ ফেল হলে আবার চেক করুন, বা সেই অর্ডারটা ফোন করে কনফার্ম করুন।
নতুন কাস্টমার মানেই সন্দেহজনক না
উল্টো দিকের ভুলটাও হয়। কোনো ইতিহাস নেই দেখে অনেকে প্রতিটা নতুন কাস্টমারকে অগ্রিম টাকা দিতে বলেন। এতে অনেক সৎ কাস্টমার চলে যায় — তাদের কাছে আপনিও নতুন, তারা আপনাকে ভরসা করবে কেন?
আমাদের নিয়ম মোটামুটি এরকম:
| অবস্থা | কী করি |
|---|---|
| ভালো ডেলিভারি রেকর্ড | সাধারণভাবে পাঠাই |
| কোনো রেকর্ড নেই (নতুন) | ফোনে কনফার্ম করে পাঠাই |
| কিছু রিটার্ন আছে, তবে বেশিরভাগ রিসিভ করেছে | কনফার্ম করে পাঠাই, পার্সেলের দিকে নজর রাখি |
| বেশিরভাগ পার্সেল ফেরত | ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চাই |
| লুকআপ ফেল | আবার চেক করি, না হলে ফোনে কনফার্ম |
অগ্রিম চাওয়ার ভদ্র উপায়
"আপনি ফ্রড হতে পারেন" — এভাবে বললে ভালো কাস্টমারও রেগে যায়। আমরা বলি:
আপনার এলাকায় পার্সেল পাঠাতে আমরা ডেলিভারি চার্জটা অগ্রিম নিচ্ছি। বিকাশে ___ টাকা পাঠালে আজই পার্সেল বুক করে দেব, বাকি টাকা হাতে পেয়ে দেবেন।
যে সত্যিই কিনতে চায়, সে সাধারণত পাঠিয়ে দেয়। যে ফেক অর্ডার দিচ্ছিল, সে চুপ হয়ে যায় — আর আপনার দুইবারের কুরিয়ার চার্জ বেঁচে যায়।
নিজের একটা তালিকা রাখুন
যে নম্বরগুলো আপনার কাছ থেকে পার্সেল ফেরত দিয়েছে বা ফোন ধরেনি, একটা তালিকায় নোট রাখুন — কবে, কী হয়েছিল। এগুলো শুধু আপনার নিজের সিদ্ধান্তের জন্য। পরের বার একই নম্বর থেকে অর্ডার এলে একবার দেখে নিন।
শেষে
ফ্রড ধরার উদ্দেশ্য কাস্টমারকে শাস্তি দেওয়া না, নিজের লস কমানো। তাই সন্দেহ করুন তথ্য দেখে, অনুমান করে না। আর একটা ফেক অর্ডার ধরতে গিয়ে দশটা ভালো কাস্টমার হারাবেন না।
রিটার্ন কমানোর বাকি নিয়মগুলো আছে এই লেখায়। চ্যাট থেকেই কাস্টমারের কুরিয়ার ইতিহাস দেখার জন্য আমাদের ফ্রড চেক টুল দেখতে পারেন।