Blog

স্টেডফাস্ট, পাঠাও, রেডএক্স না কারিবি — অনলাইন ব্যবসার জন্য কোন কুরিয়ার?

২৯ অক্টোবর ২০২৬ · ৪ মিনিটে পড়ুন · Joar টিম

"কোন কুরিয়ার সবচেয়ে ভালো?" — এই প্রশ্নের সোজা কোনো উত্তর নেই। আমরা নিজেরা একাধিক কুরিয়ার ব্যবহার করি, কারণ একেকটা একেক জায়গায় ভালো। কোনটা কাকে দেবেন, সেটা নির্ভর করে আপনার কাস্টমার কোথায় থাকে, পার্সেল কত বড়, আর টাকা কত তাড়াতাড়ি হাতে দরকার তার ওপর।

নিচের সংখ্যাগুলো ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রকাশিত রেট কার্ড আর বিভিন্ন মার্চেন্টের দেওয়া তথ্য থেকে নেওয়া — আনুমানিক। কুরিয়ারগুলো প্রায়ই রেট বদলায়, আর বেশি পার্সেল দিলে আলাদা রেট দেয়। চুক্তির আগে অবশ্যই নিজে মার্চেন্ট প্যানেলে মিলিয়ে নেবেন।

এক নজরে

স্টেডফাস্ট পাঠাও রেডএক্স কারিবি
ঢাকার ভেতরে শুরু প্রায় ৫৫ টাকা প্রায় ৬০ টাকা ৬০–৬৫ টাকার মতো সাইনআপের সময় জানায়
ঢাকার বাইরে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত ১১০–১২০ টাকা থেকে ১২০ টাকার মতো থেকে সাইনআপের সময় জানায়
COD চার্জ ১% ঢাকায় ০.৫%, বাইরে ১% (ক্ষেত্রবিশেষে ১%) ঢাকা সিটিতে ০%, বাইরে ১% প্যানেলে দেখুন
পুরো দেশে হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ

ওজন বাড়লে প্রতি কেজিতে আলাদা চার্জ যোগ হয়। আর ঢাকার বাইরের পার্সেল ফেরত এলে অনেক কুরিয়ার আলাদা রিটার্ন চার্জ কাটে — যেমন পাঠাওয়ের ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরের রিটার্নে ডেলিভারি চার্জের অর্ধেক যোগ হওয়ার কথা বলা আছে।

শুধু চার্জ দেখে কুরিয়ার বাছবেন না

দশ টাকা কম চার্জ দেখে কুরিয়ার বদলানো খুব সাধারণ ভুল। আসল খরচটা আসে অন্য জায়গা থেকে:

  • রিটার্ন রেট। যে কুরিয়ারের রাইডার কাস্টমারকে ঠিকমতো ফোন করে, সময় নিয়ে খোঁজে, তার রিটার্ন কম। দশটা পার্সেলে একটা কম রিটার্ন মানে ডেলিভারি চার্জের দশ টাকার পার্থক্যের চেয়ে অনেক বেশি লাভ।
  • টাকা কত দ্রুত আসে। ছোট ব্যবসায় ক্যাশ আটকে থাকা মানে নতুন মাল কিনতে না পারা। কেউ সপ্তাহে কয়েকবার, কেউ প্রায় প্রতিদিন পেমেন্ট দেয় — বিকাশ, রকেট বা ব্যাংকে।
  • জোন ঠিক হওয়া। এইটা আমরা কষ্ট করে শিখেছি। আমাদের একটা হিসাবে দেখা গেছে, ঠিকানা থেকে থানার নাম বাদ পড়ে যে পার্সেলগুলো ভুল জোনে বুক হয়েছিল, সেগুলোর রিটার্ন রেট ছিল প্রায় ১৪.৪%, আর ঠিক জোনে বুক হওয়াগুলোর ৬.৭%। একই কুরিয়ার, একই প্রোডাক্ট — শুধু ঠিকানা ঠিক না থাকায় রিটার্ন দ্বিগুণ।

কার জন্য কোনটা

একেবারে নিজের অভিজ্ঞতা আর পরিচিত সেলারদের কথা থেকে বলছি — এটা চূড়ান্ত রায় নয়:

  • বেশিরভাগ কাস্টমার ঢাকা সিটিতে: যার ঢাকায় COD চার্জ কম বা শূন্য, তাকে দিয়ে হিসাব করে দেখুন। প্রতিদিন অনেক পার্সেল হলে COD-এর ০.৫% বা ১%-ও মাস শেষে বড় অঙ্ক হয়।
  • সারা দেশে পাঠান, দাম কম রাখতে চান: শুরুর চার্জ কম এমন কুরিয়ার, তবে প্রথম মাসে রিটার্ন রেট খেয়াল রাখুন।
  • দ্রুত টাকা দরকার: যারা ঘন ঘন পেমেন্ট দেয়, তাদের অগ্রাধিকার দিন।
  • নতুন কুরিয়ার ট্রাই করতে চান: সব পার্সেল একসাথে সরাবেন না। এক-দুই সপ্তাহ অল্প কিছু পার্সেল দিয়ে দেখুন — ডেলিভারি সময়, রিটার্ন আর পেমেন্ট ঠিক আছে কিনা।

দুইটা কুরিয়ার রাখা ভালো

আমরা অন্তত দুইটা কুরিয়ারে অ্যাকাউন্ট খোলা রাখার পক্ষে। ঈদের আগে বা বন্যার সময় একটার সার্ভিস ধীর হয়ে গেলে অন্যটায় পাঠানো যায়। কিছু এলাকায় একজনের ডেলিভারি স্পষ্টভাবে ভালো — খাতায় লিখে রাখলে কয়েক মাসেই প্যাটার্ন দেখবেন।

তবে একই অর্ডার কোন কুরিয়ারে যাচ্ছে সেটা পরিষ্কার রাখতে হবে। আমাদের প্যানেলে আগে এক কুরিয়ার বাছাই করা থাকলে অন্যজন ভুল করে আরেক কুরিয়ারে পাঠিয়ে দিত — পরে আলাদা নাম দেওয়া বাটন আর একবার কনফার্ম করার ধাপ যোগ করে সমস্যাটা মিটেছে। ছোট জিনিস, কিন্তু মাসে কয়েকটা পার্সেলের ঝামেলা বাঁচায়।

পাঠানোর আগে কাস্টমারের ইতিহাস দেখুন

কুরিয়ারগুলোর কাছে কোন ফোন নম্বরে কতগুলো পার্সেল গেছে আর কতগুলো ফেরত এসেছে, তার রেকর্ড থাকে। কিছু কুরিয়ার মার্চেন্টদের এই তথ্য দেখার সুযোগ দেয়, আবার কিছু আলাদা সার্ভিসও আছে।

একটা সতর্কতা: নম্বর খুঁজে কিছু না পাওয়া আর "এই কাস্টমারের কোনো রিটার্ন নেই" — এক কথা নয়। লুকআপ ফেল করলে সেটা "জানা নেই", তখন আরেকবার চেক করুন। আমরা একবার এই ভুলে বহু পুরনো কাস্টমারকে "নতুন" ধরে নিয়েছিলাম।

শেষে

কুরিয়ার বাছাই একবারের সিদ্ধান্ত না। প্রতি মাসে তিনটা সংখ্যা দেখুন — গড় ডেলিভারি সময়, রিটার্ন রেট, আর টাকা হাতে পেতে কতদিন লাগল। যে কুরিয়ার এই তিনটায় আপনার এলাকায় ভালো, সেটাই আপনার জন্য সেরা — সে যত নামই হোক।

আমাদের কুরিয়ার বুকিং আর ফ্রড চেক টুল দিয়ে চ্যাট থেকেই পার্সেল বুক আর কাস্টমারের ইতিহাস দেখা যায়। জানতে চাইলে মেসেজ করুন।

Keep reading